ব্যাবিলন : কয়েক হাজার বছর পার করে


ছোটোবেলা থেকে পড়ে ও জেনে আসা পৃথিবীর সাতটি আশ্চর্য বস্তুর মধ্যে দুটো ছিল খুব প্রিয়৷ তাজমহল প্রিয় ছিল কেননা তা বাস্তবে দেখা আর অন্যটি ছিল ঝুলন্ত বাগান৷ এই বাগান কীরকম, তা নিয়ে আমার নানান স্বপ্ন কল্পনা ছিল৷ শূন্যে ভাসমান একটি বাগান, সেই বাগানের ভিতর দিয়ে মেঘ ভেসে যায়, বাগান থেকে ঝর্ণা গড়িয়ে গড়িয়ে পৃথিবীতে গিয়ে পড়ে, পরীরা খেলে বেড়ায়৷ আর একটু বড় হলে প্রশ্ণ জাগল বাগান কি ঝুলে থাকতে পারে? নিশ্চই বাগানের গাছগুলোর সঙ্গে কোথাও দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু কীসের সঙ্গে দড়িটা বাঁধা হয়েছে তার হদিশ কখনো পাইনি৷ 

খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় তিনহাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়ায় অতি উন্নত এক সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বারবার বিধবস্ত হয় বহিঃশত্রুদের আক্রমণে৷ পরবর্তীতে এখান থেকে ব্রোঞ্জ যুগে আক্কাদীয়, ব্যাবিলনীয়, আসিরীয় ও আরো পরে লৌহ যুগে নব্য আসিরীয় আর নব্য ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে ওঠে৷ 

পার্সিয়ান, রোমান আবার পার্সিয়ানদের শাসনকাল পার হয়ে সপ্তম শতাব্দীতে মেসোপটেমিয়া মুসলিমদের শাসনাধীন হয়৷ এই সময়েই নাম পরিবর্তিত হয়ে ইরাক হয়৷ 

এখন যেটা ইরাক প্রধানত সেটাই একসময় ছিল মেসোপটেমিয়া৷ তবে এটা বললে সম্পূর্ণ বোঝা যাবে না৷ ঐতিহাসিক ভাবে মেসোপটেমিয়া বলতে এখনকার সিরিয়া, কুয়েত, ইরাণ আর তুরস্কের কিছু অংশও বোঝাত৷ ঝুলন্ত বাগান যে অংশে ছিল সেটাই এখন ইরাক, যার রাজধানী আর এক ঐতিহাসিক শহর বাগদাদ৷ 

সেই ইরাক থেকে যখন ব্যাবিলন সাংস্কৃতিক উৎসবে কবিতা পাঠের আমন্ত্রণ এল তখন আনন্দ ও বিষ্ময় দু-ই একই সঙ্গে গ্রাস করল আমাকে৷ প্রায় দশদিন ধরে চলে এই উৎসব৷ আমাদের পাঁচ দিনের আতিথেয়তা দেওয়া হবে৷ এয়ার টিকিট আর তার সঙ্গে ভিসা যথাসময় পাঠিয়ে দিয়েছেন উদ্যোক্তরা৷ দিল্লি থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার সরাসরি উড়ান বাগদাদ অবধি৷ 

পর্যটনে খুব একটা উৎসাহ নেই ইরাক সরকারের৷ ফলত কাজের প্রয়োজন ছাড়া কেউ ইরাক আসে না৷ ভাষার একটা প্রতিবন্ধকতা তো আছেই৷ আরবি ভাষাই এদের প্রধান ভাষা, ইরেজি প্রায় জানেই না৷ যদিও নবীন প্রজন্ম ইংরেজি শেখার প্রতি ক্রমশ আগ্রহী হচ্ছে৷ 

ব্যাবিলনের আকিতু উৎসব ছিল প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, প্রকৃতির পুনর্জন্মের সম্মানে পালন করা হত৷ দীর্ঘকাল চলার পর একসময় বন্ধ হয়ে যায়৷ গত শতকের আটের দশকের শুরুতে ইরাকের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হুসেন পুনরায় এই উৎসবের প্রবর্তন করেন শিল্প সাহিত্য সঙ্গীতকে প্রাধান্য দিয়ে, যা তাঁর শাসনকালের শেষ অবধি বজায় ছিল৷ কিছু বছর বন্ধ থাকার পর ২০১১ সাল থেকে ইউনেস্কোর সহযোগীতায় এই উৎসব আবার শুরু হয়েছে৷ 

বাগদাদ এয়ারপোর্টে প্রায় কেউই ইংরেজি জানে না৷ আমাদের নেবার জন্য উদ্যোক্তাদের তরফ থেকে ব্যবস্থা ছিল৷ তারাই আলাদাভাবে কাস্টম্স-এর ছাড়পত্র নিয়ে এলেন৷ এয়ারপোর্টের বাইরে অপেক্ষমান গাড়িতে চড়ে বসলাম৷ গন্তব্য হোটেল৷ এয়ারপোর্ট এলাকার পরিধি বেশ দীর্ঘ৷ তা পার হয়ে মূল শহরে ঢুকতে মিনিট পনেরো লাগে৷ আমার ফ্লাইট বাগদাদে নেমেছিল সন্ধে সাতটা নাগাদ৷ মূল শহরে ঢোকার পর দেখলাম শহর বেশ জমজমাট৷ শুরুতে একটা আশঙ্কা হচ্ছিল, যাদের আমন্ত্রণে এলাম তাদের কাউকেই তো জানি না, যদিও সেই অশঙ্কা দূর হতে সময় লাগেনি৷  

শহরের মাঝখানে অভিজাত হোটেল আল মনসুর-এ আমাদের থাকার ব্যবস্থা৷ হোটেলে প্রতিটা ঘরের সঙ্গেই রয়েছে একটা ব্যালকনি৷ সেখান থেকে দিয়ালা নদী চোখে পড়ে৷ দিয়ালা ইরাকের প্রধান নদী টাইগ্রিসের অংশ৷ আর চোখে পড়ে বাগদাদ শহরের সন্ধ্যা পরবর্তী আলোকসজ্জা৷ আমাদের মূল অনুষ্ঠান ব্যাবিলনে, যা বাগদাদ থেকে প্রায় একশ কি: মি: দূরে, যেতে সময় লাগে আড়াইঘণ্টা৷ আমি ও আরো কয়েকজন একদিন আগে পৌঁছেছি, অনেকেই পৌঁছবে পরের দিন৷ উদ্যোক্তরা আগে এসে পড়া অতিথিদের জন্য শহর ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা করেছেন৷ 

বাগদাদের আল মুতান্নাবি রাস্তার কথা জানা ছিল৷ এটাই বাগদাদের বইপাড়া৷ ঠিক হল এখান থেকেই আমাদের শহর ভ্রমণ শুরু হবে৷ আল মুতান্নাবিতে পৌঁছে দেখি জায়গাটা অনেকটা আমাদের কলেজস্ট্রিটের মতন বা দিল্লির দরিয়াগঞ্জের মতন৷ আরব দুনিয়ায় যে বইপড়ার চাহিদা প্রবল তার একটা আন্দাজ কায়রো বইমেলায় গিয়ে পেয়েছিলাম৷ এখানেও দেখি রাস্তার দুপাশে খিলান দেওয়া বাড়ি, সেখানে বড় বড় বইয়ের দোকান, প্রকাশনা দপ্তর৷ দিনটা শুক্রবার ছিল বলে রাস্তায় বই ফেলেও অনেকে বিক্রি করছে৷ সবই আরবি ভাষার বই৷ ছুটির দিন হলেও রাস্তায় বই প্রেমীকদের ভিড় যথেষ্ট৷ যে কোনো শহরে ভিড়ের জায়গায় হাঁটলে সেই শহরের সংস্কৃতির একটা আন্দাজ পাওয়া যায়৷ এই রাস্তা ধরে সামান্য এগোতেই আমাদের নজরে এল শাবান্দার! কলেজস্ট্রিটে যেমন রয়েছে কফিহাইস, এক কাপ কফি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা যায়, এখানে শাবান্দার অনেকটা তেমনই আড্ডার জায়গা৷ ভিতরে ঢুকে দেখি বয়স্কদের পাশাপাশি বহু তরুণ তরুণীর ভিড়, সবার হাতে একটা করে হুঁকোর নল৷ বুঝলাম এটা একটা হুঁকা হাউস৷ গোটা ইরাক জুড়েই হুঁকা পানের চল৷ এই হুঁকোর তামাক নানান স্বাদের হয়৷ যে যার পছন্দমত স্বাদের তামাক নেয়৷ একটা বিশাল ঘরে নানান আকারের বেঞ্চ পাতা, সেখানেই ঠেসাঠেসি করে বসে আছে সকলে, ছেলে মেয়েরা একসঙ্গে৷ ঘরময় ধোঁয়ায় সুগন্ধ৷ ইরাকে কফি পানের চল নেই, সকলেই হুঁকোর সঙ্গে চা পান করছে৷ মেয়েরা জিন্স্ টি-শার্টে সাবলীল, হিজাব পরার বাধ্যবাধকতাও নেই৷ মুতান্নাবি স্ট্রিট টাইগ্রিস নদীর এক ঘাটে এসে শেষ হয়েছে৷ সেখানে ইরাকের আদি কবি আবু আল তায়ির আল মুতান্নাবির (৯১৫-৯৬৫ খ্রীঃ) বেশ বড় একটা মূর্ত্তি৷ এঁর নামেই রাস্তা ও এলাকার নামকরণ৷ এর পাশ দিয়ে একফালি রাস্তা যেখানে অটোমান সংস্কৃতির বেশ কিছুটা ধরে রাখা৷ বাড়িগুলো সেই সময়কার বাড়ির আদলে বানানো৷ পশ্চিমের দেশের মতন এখানে আরব ভিক্ষুকেরা নানান বাদ্যযন্ত্র সহযোগে গান গেয়ে ভিক্ষে করে৷ এই রাস্তার শেষেই, আগের মূর্ত্তির মত বেশ বড় এক নারী মূর্ত্তি৷ ইরাকের প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া মহিলা কবি নাজিকা আল মালাইকা-র (১৯২২-২০০৭)৷ পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সমান সম্মান সভ্যতার ঐতিহ্যের কথাই মনে করায়৷ 

যে কোনো আধুনিক শহরের মতনই বাগদাদ শহরেও রয়েছে বেশ কিছু অত্যাধুনিক মল৷ আমরা চাইছিলাম স্থানীয় বাজার অর্থাৎ যেখানে দরদাম করে সস্তায় কিছু কেনা যায়৷ আল রশীদ স্ট্রিটের দুধারে দোকান অনেকটা আমাদের গড়িয়াহাট অঞ্চলের মতন, ফুটপাত জুড়েও জামাকাপড় খুচরো জিনিসের দোকান সাজানো৷ সারাদিন দোকান করে রাত্রে সব গুটিয়ে নেয়৷ এখানেও কিছু দূর দূরই হুঁকোবার৷ অনেক ফুটপাতের উপর জায়গা দখল করে খোলা আকাশের নিচে বসে হুঁকো টানছে৷ আর এই হুঁকোবারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একধরণে রেস্তোঁরার মতন চেয়ার টেবিল সাজানো ঘর৷ যেখানে লোকে বসে আমাদের পুরনো পাশাখেলার মতন কিছু খেলছে, যেটা হঠাৎ দেখে জুয়োখেলা মনে হতে পারে৷ 

রাস্তার দুধারে সোনার দোকান দেখে বেশ কৌতুহল হল৷ সঙ্গী একজন স্থানীয় লোককে জিজ্ঞেস করলাম— সোনা কি এখানে সস্তা? লোকটি জানালো একেবারেই নয়৷ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ণ জাগলো তাহলে এত সোনার দোকান কেন?

বারবার যুদ্ধ, অস্থিরতায় বিধবস্ত হতে হতে ইরাকি দিনারের বিশ্বাসযোগ্যতা একেবারে তলানীতে৷ দিনারের মূল্য যে কোনো সময়েই মারাত্মক পড়ে যেতে পারে৷ তাই ব্যাঙ্কে টাকা রাখা নির্ভরযোগ্য নয়৷ সবাই সোনা কেনে৷ 

বাগদাদ শহরের প্রধান দ্রষ্টব্য হচ্ছে ইরাকের মিউজিয়াম৷ প্রাচীন সভ্যতার বিবর্তনের ইতিহাস খুব সুন্দর ভাবে ধরে রাখা আছে৷ শিকারের অস্ত্রের বিবর্তন থেকে শুরু করে নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীর পরিবর্তন৷ সঙ্গে স্বল্প কথায় সেই সময়ের ইতিহাস৷ সভ্যতার শুরুতে মানুষের সচেতনতার বোধ চমৎকৃত করে৷ ভবিষ্যতের কথা ভেবে সেই সময়ের মানুষেরা তাদের সময়ের উল্লেখ্য ঘটনাবলী পাথরে লিপিবদ্ধ করে গেছে৷ যে ঈশ্বরের তারা উপাসনা করত, তার মূর্ত্তি গড়ে তার সম্পর্কে মূর্ত্তির নিচে লিপিবন্ধ করেছে৷ অনেকসময় স্থানাভাবে মূর্ত্তির গায়েও লেখা হয়েছে খোদাই করে৷ এগুলো আবিষৃকত না হলে মানবসভ্যতার বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ধারণা হত শুধুই কল্পণাশ্রয়ী৷ 

বাগদাদ থেকে ব্যাবিলন যাবার রাস্তা বেশ মসৃণ৷ দুধারে কোথাও কোথাও বসতি গড়ে উঠেছে৷ দেখলেই বোঝা যায় কোনো একসময় শুধুই বালির সন্নিবেশ ছিল, সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে মানুষ নিজেদের মত করে বাসযোগ্য করে নিয়েছে৷ 

তৃতীয় বিশ্বের যে কোনো আধুনিক শহরের মতনই ব্যাবিলন বেশ ঘিঞ্জি ও অপরিষ্কার৷ ফ্লাইওভার এখনও এখানে অবলম্বন নয়৷ শপিং মল, চোখধাঁধানো নানান নাগরদোলা ইত্যাদি দিয়ে অনেকটা ডিজনিল্যান্ড গোছের বিনোদনের জায়গা তৈরির চেষ্টা হয়েছে৷ খুব বড় শহর নয়, তারই একপাশে নির্মিত হয়েছে ব্যাবিলন থিয়েটার৷ অনেকটা এ্যাম্পি থিয়েটারের ধাঁচে তৈরি, প্রায় সত্তর আশি হাজার লোক বসতে পারে৷ যে ফেস্টিভালের জন্য আমরা গিয়েছি তার উদ্বোধন এখানেই৷ পুরনো ব্যাবিলন শহর এখান থেকে হেঁটে মিনিট পাঁচেক৷ 

বাগদাদ শহরে স্থায়ী কোনো থিয়েটার হল নেই৷ তবে বছরে একবার আন্তর্জাতিক থিয়েটার উৎসব হয়ে থাকে৷ মূলত আরবভাষী দেশ থেকেই থিয়েটারের দল আসে৷ এছাড়া বৌদ্ধিক বিনোদনের উপাদান প্রায় নেই৷ ব্যাবিলন ফেস্টিভাল তাই ইরাকবাসীর কাছে বড় উৎসব৷ উদ্বোধনের দিন দেখলাম ব্যাবিলন থিয়েটারের দর্শকাসন কাণায় কাণায় পূর্ণ৷ 

পুরনো ব্যাবিলন শহরের কিছুই অবশিষ্ট নেই৷ শহরটা ছিল প্রাচীর দিয়ে ঘেরা৷ এখনকার সময় হলে শহর না বলে একে বড় হাউজিং কমপ্লেক্স বলা যেতে পারত৷ ভেঙে যাওয়া প্রাচীর আবার নির্মাণ করে, ভিতরের ধবংসস্তূপ পরিষ্কার করে রাখা৷ ভিতরের রাস্তা, খিলান, রাজ দরবারের দরোজা এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে৷ এই ব্যাবিলন শহরে ঢোকার আটটা দরোজা ছিল এর মধ্যে অষ্টমটিকে বলা হত ইশতার দরোজা৷ কালের নিয়মে এই সবকটা দরোজাই ভেঙে গিয়ে একটা অবশিষ্ট ছিল৷ প্রথম যুদ্ধের সময় জার্মানরা সেটাও ভেঙে নিয়ে যায়৷ উদ্দেশ্য জার্মানিতে একইরকম গেট বানাবে৷ বার্লিনে পার্গামন মিউজিয়মের সামনে তারা এই ইশতার গেটটি বানায়৷ বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ইরাকিরা আগের মতন করে আবার একটা নতুন গেট তৈরি করে৷ সেই ইশতার দরোজার সামনেই বিকেল সন্ধ্যার সন্ধিক্ষণে ছিল আমাদের কবিতা পাঠের আসর৷ 

নব্য ব্যাবিলন সাম্রাজ্যের শক্তি আর ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে খ্রীষ্টপূর্ব ৫৬৯ সালে তৈরি হয়েছিল এই ইশতার দরোজা রাজা দ্বিতীয় নেবুচাদ নেজারের আদেশে৷ নীল রঙের এই দরোজার দুপাশে ও ওপরের দিকে কিছু জীবজন্তু ও ফুলের ছবি আঁকা৷ সেই সময়ের দেবতা মারদুক, আদাদ আর দেবী ইশতারের প্রতীক ছিল এই ছবি৷

কিন্তু ব্যাবিলন মানে যে ছোটোবেলায় পড়া ঝুলন্ত বাগানের স্মৃতি সেটা কোথায়? উদ্যোক্তাদের কাছে জানতে চাইলাম সেই ঝুলন্ত বাগান কোথায়? জানলাম সেই ঝুলন্ত বাগানে যে কোথায় ছিল তা কেউ জানে না৷ বাগানটা আদৌ ছিল কি? জানলাম পাথরে খোদাই করা লিপি থেকে এই বাগানটার কথা জানা যায়৷ রাজা দ্বিতীয় নেবুচাদ নেজার খ্রীষ্টপূর্ব প্রায় সাড়ে পাঁচশ বছর আগে পাহাড় কেটে এই বাগান তৈরি করিয়েছিলেন তাঁর ইরাণিয়ান স্ত্রী এ্যামিতিসকে সন্তুষ্ট করার জন্য৷ ইরাণ থেকে এসে এই রুক্ষ মরুভূমির মধ্যে এ্যামিতিসের মন বসছিল না, সবসময় বিমর্ষ হয়ে থাকতেন৷ তাঁর মন ভালো করতে পাহাড় কেটে কেটে, সেখানে জলসেচের ব্যবস্থা করে ইউফ্রেটিস নদীর পাড়ে এক সুদৃশ্য বাগান নির্মাণ করেন৷ এটিই ঝুলন্ত বাগান নামে খ্যাত হয়৷ পরবর্তীকালে কিছু ঐতিহাসিক প্রমাণ করতে সচেষ্ট হন যে ঝুলন্ত বাগান ব্যাবিলনে ছিল না৷ ছিল সেখান থেকে প্রায় কয়েকশ মাইল দূরে৷ 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির প্রধান খাবার মাংস৷ ইরাক তার ব্যাতিক্রম নয়৷ নদী নির্ভর দেশ বলে মাছও অন্যতম প্রিয় খাবার৷ এই মাছেরই গ্রিল করা একটা জনপ্রিয় ডিশ্ হল মাসগাউফ৷ মাংসের মধ্যে ছাগল আর গরুর চল সর্বাধিক৷ কাবাবের মধ্যেও মাংসের ছড়াছড়ি৷ এরা একধরণের বিরিয়ানি বানায় যা অনেকটা আমাদের মোরগ পোলাওয়ের মত খেতে৷ কাবাবের সঙ্গে সাদা ভাত বা হলুদ পোলাও দেওয়া রীতি৷ 

যখন দিল্লি থেকে বাগদাদ আসছিলাম প্লেনের জানলা দিয়ে নজরে এসেছিল, বালিয়াড়ির পর বালিয়াড়ি, ক্ষীণ রেখার মতন টাইগ্রিস নদী৷ ফেরার সময় জানলা দিয়ে নীচে তাকিয়ে দেখলাম এই ভ্রমণ শুধু একটা দেশ দেখা ছিল না, ছিল ইতিহাসের স্মরণি দিয়ে কয়েক হাজার বছর অতিক্রম করে ঘুরে আসার৷    

১৯ পণ্ডিতিয়া টেরেস,

কলকাতা-২৯

যোগাযোগ-৯৮৩০০২৫৪৭৮